Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

সরকারি নিয়োগ, কিন্তু বেতন নেই ! সরকারি সুযোগ সুবিধা নেই, কম্পিউটার সহ অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ নেই, সংসার চালাতে ম‍্যারেজ অফিসারদের কেউ করছে কৃষিকাজ, কেউবা চা বাগানের শ্রমিক!

কলকাতা : Marriage Officer, Appointed by Government of west Bengal.. এটাই সবাই জানেন, অথচ মাস ফুরালে কোন বেতন নেই, সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা নেই। 68 বছর পর রির্টাটম‍্যান্ট আছে, কিন্তু রির্টাটম‍্যান্ট বেনিফিট নেই! বেতন না পেলেও অন‍্য…

 

কলকাতা : Marriage Officer, Appointed by Government of west Bengal.. এটাই সবাই জানেন, অথচ মাস ফুরালে কোন বেতন নেই, সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা নেই। 68 বছর পর রির্টাটম‍্যান্ট আছে, কিন্তু রির্টাটম‍্যান্ট বেনিফিট নেই! বেতন না পেলেও অন‍্য কোন সরকারি বা সরকার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় কাজ করার আইনত অধিকার নেই। অফিস থাকলেও অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ সরকারের কাছে চাওয়ার অধিকার নেই।

পূর্বতন সরকারের  আমলে এই অমানবিক শর্তে ম‍্যারেজ অফিসার নিয়োগ করার জন‍্য west Bengal special  Marriage Rules 2010 এবং west bengal Hindu Marriage Rules 2010 তৈরী করা হয়েছিল।এই রুলস কোন পরিবর্তন না করে বর্তমান সরকার রাজ‍্যে প্রায় 500 নতুন ম‍্যারেজ অফিসার নিয়োগ করে।

নিয়োগের সময় শর্ত দেওয়া হয়েছিল নিজের খরচে অফিস ঘর থাকতে হবে। বিদুৎ সংযোগ থাকতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ‍্যমিক এবং  কম্পিউটার নলেজ থাকতে হবে। বিনিময়ে ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন হলে 75% কমিশন পাওয়া যাবে। বতর্মানে রেজিষ্টেশন ফি 500টাকা। ম‍্যারেজ অফিসারের পাপ‍্য 375 টাকা।



জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানা ম‍্যারেজ অফিসার ভক্তি মাহাতো জানান, আমি এম এ পাশ করে চাকরির চেষ্টা করছিলাম। 2015 সালে রাইটার্স বিল্ডিং এ জুডিসিয়াল দপ্তর  ম‍্যারেজ অফিসার  নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি আবেদন করি। 

নিজের খরচে অফিস ঘর ও বিদুৎ সংযোগ নিই। গ্রামীন এলাকায় ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন কম হয়। সুপ্রিম কোর্ট 2006 সালে ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন বাধ‍্যতামূলক করলেও বাংলায় সেটা কার্যকর হয়নি, একারনে রুপশ্রী প্রকল্পে ম‍্যারেজ নোটিশের সার্টিফিকেট বাধ‍্যতামূলক না করে বিয়ের কার্ড দেখিয়ে 25 হাজার টাকা পেয়ে যাচ্ছে। মাসে আমার কাছে একটা বা দুটো ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন হয়। কোন কোন মাসে একটিও রেজিষ্টেশন হয়না।

ভক্তি আরো জানান, 2019 সাল থেকে অনলাইন ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন চালু হয়। ফলে ম‍্যারেজ অফিসারদের কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক‍্যানার, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক‍্যামেরা সহ স্মার্টফোন কিনতে এবং  ইন্টারনেট ব্রডব‍্যান্ড কানেকশন নিতে বাধ‍্য করা হয়। আমি ধার দেনা করে কিনেছিলাম। আমার মাসে অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ 10 হাজার টাকা রোজগার হাজার টাকারও কম!

সংসার চালানোর জন‍্য আমাকে মাঠে শ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে!


 জলপাইগুড়ির মেটেলী থানার ম‍্যারেজ অফিসার  ভুট্টু আলি  তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, " west bengal ম‍্যারেজ রুলস 2010 এ উল্লেখ  আছে ম‍্যারেজ অফিসার হওয়ার জন্যে  নিজস্ব অফিস ঘর এবং  কম্পিউটার নলেজ থাকতে হবে। 

 2012 সালে রুলস এমেন্ডম‍্যান্ট করে বলা হয় ম‍্যারেজ অফিসার হতে গেলে নিজস্ব অফিস ঘর এবং  কম্পিউটার সামগ্রী থাকতে হবে।

অথচ 2015 সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সময় 2012 সালের রুলস এমেন্ডম‍্যান্ট  হয়েছে এই তথ‍্য গোপন রেখা হয়। 2010 সালের রুলস অনুযায়ী নিজস্ব অফিস ঘর এবং  কম্পিউটার নলেজ থাকতে হবে এই শর্তে ম‍্যারেজ অফিসার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

অনলাইন চালুর পর আমরা কম্পিউটার সামগ্রীর খরচ ও অফিস ম‍্যান্টেনেন্স চার্জ দাবি করি। কিন্তু সরকার গত 13 বছরে রেজিষ্টেশন ফি বাড়ায়নি। অফিস ম‍্যান্টনেন্স খরচ বাড়ায়নি। ফলে সংসার চালাতে আমাকে চা বাগানের শ্রমিকের কাজ করতে হচ্চে।

 

বর্তমানে জুডিশিয়াল দপ্তরের পরিবর্তে আইন দপ্তর ম‍্যারেজ অফিসারদের বিষয়টি দেখভাল করে। ম‍্যারেজ অফিসাররা বারবার  আইন দপ্তর, আইনমন্ত্রী  এমনকি মুখ‍্যমন্ত্রীর কাছে বাম আমলের অমানবিক রুলস বাতিল করে ম‍্যারেজ অফিসারদের অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ প্রদান এবং ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন সংখ‍্যা বাড়ানোর জন‍্য জুরিশডিকশন বাড়ানোর জন‍্য 

 বার বার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বতর্মান সরকার সেই দাবি গুরুত্ব না দিয়ে যে সমস্ত ম‍্যারেজ অফিসারদের জুরিশডিকশন 4টি থানা, 1টি মহকুমা, 1টি জেলা ছিল তা কমিয়ে সবার 1টি থানা করে দিয়েছে। এর ফলে আমরা আরো সমস‍্যায় পড়ে গেলাম। 


ম‍্যারেজ অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এ‍্যাসোসিয়েশনের রাজ‍্য সম্পাদক জোৎস্না মাহাতো বলেন, রাজ‍্য সরকার যদি ম‍্যারেজ অফিসারদের অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ, মাসিক ভাতা দিতো তাহলে ছোট জুরিশডিকশন হলেও কারুর কোন সমস‍্যা হোতনা। কিন্তু অফিস ম‍্যান্টেনেন্স খরচ এবং  মাসিক রোজগার যেহেতু কমিশনের ওপর নির্ভর করতে হয়, কাজেই বেশি সংখ‍্যক ম‍্যারেজ রেজিষ্টেশন করার জন‍্য জুরিশডিকশন একটি থানার পরিবর্তে একটি জেলা করার জন‍্য দীর্ঘদিন দাবী করে এসেছি। উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হয়েছি।

No comments