কলকাতা : মন্দারমনি বেড়াতে এসে পচা খাবার দেওয়ার প্রতিবাদ করায়, মহিলা পর্যটকদের সঙ্গে দুব্যবহার করার অভিযোগ উঠলো হোটেল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হোটেলের এক কর্মী মদ্যপ অবস্থায় রুমে ঢুকে মহিলা পর্যটকদের সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহারের চেষ্টা ক…
কলকাতা : মন্দারমনি বেড়াতে এসে পচা খাবার দেওয়ার প্রতিবাদ করায়, মহিলা পর্যটকদের সঙ্গে দুব্যবহার করার অভিযোগ উঠলো হোটেল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হোটেলের এক কর্মী মদ্যপ অবস্থায় রুমে ঢুকে মহিলা পর্যটকদের সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
এই পর্যটক দলে কলকাতা কর্পোরেশনের দক্ষিণ কলকাতার 68 নম্বর ওয়ার্ডের কাউনসিলর সুদর্শণা মুখার্জী রয়েছেন। ভোরের আলো নামে এই রিসর্ট এর বিরুদ্ধে মন্দারমনি থানার ওসি এবং মন্দারমনি হোটেলিয়র্স এসোসিয়েশনের সভাপতি দেবদুলাল দাস মহাপাত্রকে তিনি নালিশ জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই কাউন্সিলর সহ 6 জন মহিলা পর্যটক শুক্রবার মৎস্যজীবীদের নিয়ে একটি কর্মশালায় যোগ দিতে মন্দারমনি এসেছেন, রবিবার তাদের ফিরে যাওয়ার কথা।
কাউন্সিলাল সুদর্শণা জানান, হোটেলে বাসি, পচা খাবার দেওয়া হয়। দুর্গন্ধে আমরা সেই খাবার খেতে পারিনি। তা সত্বেও আমরা খাবারের দাম দিয়ে দিই। কিন্তু বাসি পচা খাবার নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করলেও হোটেল কতৃপক্ষের কোন ভুক্ষেপ নেই। আমাদের খাবার পাল্টে দেওয়া দুরের কথা, উল্টে আমাদের সঙ্গে দুব্যবহার করা হয়। হোটেলের এক পুরুষ কর্মী মহিলাদের রুমে জোর করে ঢুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। অশ্লীল কথা বলতে শুরু করে।
কাউন্সিলার আক্ষেপ করে বলেন রাজ্য সরকার পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দীঘা ও মন্দারমনিকে সাজিয়ে তুলেছেন। প্রচুর হোটেল ও রিসর্ট আর্থিক দিক থেকে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু সেবার মানসিকতার পরিবর্তে যেভাবে এরা পর্যটকদের ঠকাচ্ছে তাতে পর্যটনকেন্দের বদনাম হচ্ছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পর্যটন দপ্তরেও অভিযোগ জানাবো।
পর্যটন শহরে হোটেল রিসর্টে খাবারের গুনগত মান নিয়ে মাস কয়েক আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজী। দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কার্যনির্বাহী আধিকারিককে দায়িত্ব দিয়েছিলেন দীঘা ও মন্দারমনিতে কমপ্লেন বক্স করতে। যেখানে একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর থাকবে। পর্যটকরা কোন সমস্যায় পড়লে সহজে অভিযোগ করতে পারবেন। উন্নয়ন পর্ষদ অবশ্য এখনো এই বিষয়টি কার্যকর করে উঠতে পারেনি।
"ভোরের আলো " নামে এই রিসট এর আগেও অনেকের সঙ্গে দুব্যবহার করছে বলে হোটেলিয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি দেবদুলাল দাস মহাপাত্র স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন অনেক পর্যটক ঝামেলার ভয়ে অভিযোগ করেননা। আমরা অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।
ভোরের আলো রিসর্ট এর পক্ষে দেবদাস হালদার বলেন, পর্যটক আমাদের অতিথি। কেউ তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের রিসট থেকে ফিরে যাক এটা আমরা চাইনা। আমাদের তরফে কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।


No comments